৩১তম দলিল: মার্চ ২০২৫
কল্পনা, বাস্তব আর রূপকের মাঝে
চিন্তাভাবনা
নক্ষত্রখচিত রাতে আকাশের বুকে দেবতার নৌকার মতো ভেসে আছে অলীক চাঁদ। জোনাকির মতো পাহাড়ের গায়ে জ্বলে আছে শহরের আলো— একাধিক বাড়ির জানালায় জ্বলছে বৈদ্যুতিক বাতি। কবিতার মতো এই নিসর্গে— যেখানে কান পেতে শোনা যায় নৈঃশব্দ্য— আচমকা বর্গীর মতো হানা দেয় পুলিশি সাইরেন। নীরবতাকে খানখান করে, তছনছ করে দেয় যাবতীয় সমাহিত রাত্রিযাপন।
রুক্ষ মাটির সামান্য ওপর দিয়ে উড়ে যায় ঝকঝকে ডানার পাখিদের দল, তাদের পেছন পেছন ধাওয়া করে আসে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য ট্যাঙ্ক।
নীল আকাশের নিচে মাঠে চরে বেড়াচ্ছে একপাল ভেড়া। আর, চারপাশে ধ্বংসাবশেষ। বাড়িঘর। বিছানা। ফ্রিজ। যানবাহন। যেন, একরাতের প্রলয়ঙ্কর ঝড়ে ওলোটপালোট হয়ে গেছে জনজীবন।
আকাশে ভর্তি তারা। মানুষজাতির পূর্বজরা তাকিয়ে আছেন তাঁদের উত্তরসূরির দিকে। তাঁদের আলো নিভে গেছে কবেই। তবুও তাঁরা এখনও বেঁচে আছেন পৃথিবীর বুকে হেঁটে-চলে বেড়ানো মানুষের স্মৃতিতে। বেগুনি আকাশের নিচে চলছে নির্মাণকার্য। যে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে জল্লাদ সেনাবাহিনী, সেই বাড়ি পুনর্নির্মাণের কাজে রত কয়েকজন উদ্যমী তরুণ।
পড়লে মনে হয়, কেউ যেন সুন্দর, স্থিতধী জীবনের ওপর উন্মত্ত ঘাতকের ওপর গুলি চালিয়ে গেছে অমোচনীয় ক্ষোভের বশে; যেন, কী এক অনপনেয় ঘৃণায় শেষ করে দিতে চেয়েছে এই নিসর্গের যাবতীয় মানুষী চিহ্নকে। ইজরায়েলের সেনা প্যালেস্তাইনের মানুষের ওপর যে অপরিসীম নির্যাতন শুরু করেছে, এই দৃশ্যগুলো আদতে তারই নিদর্শন।
এরকম অনেকগুলো দৃশ্য সারাক্ষণ ধরে মিশে থাকে এ-বছর অস্কার জেতা ডকুমেন্টারি ছবি ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর সবটুকু জুড়ে। ইজরায়েল-দখলকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের এক প্যালেস্তিনীয় গ্রাম মাসাফের ইয়াট্টায় কিভাবে ইজরায়েলি সেনা অমানুষিক অত্যাচার চালাচ্ছে, তা নিয়েই বাসেল আদ্রা, ইয়ুভাল আব্রাহাম, হামদান বল্লাল এবং আর র্যাচেল স্জার — চারজন মিলে এই ছবিটা বানিয়েছেন। তরুণ প্যালেস্তিনীয় বাসেল আদ্রা তাঁর গোটা জীবন কাটিয়েছেন সংগ্রাম করতে করতে, সংগ্রাম দেখতে দেখতে। শেষতক, যখন তাঁদের বাড়িঘর ভেঙে দিচ্ছে, তাঁদের মাটি কেড়ে নিচ্ছে নিষ্ঠুর ইজরায়েলি সেনা— তখন তাঁর একমাত্র হাতিয়ার হয়ে উঠেছে একটি ক্যামেরা, প্রতিরোধের একমাত্র মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠেছে এই ডকুমেন্টারি। ছবিটি শুরু হয় তাঁর বুক মুচড়ে দেওয়া একটি স্বগতোক্তি দিয়ে: আমাদের যখন শেষের শুরু, আমিও তখন ছবি বানানো শুরু করলাম। সমস্ত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, সামরিক নির্যাতন, অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে একমাত্র মার হয়ে থাকে একটি ডকুমেন্টারি ছবি। ইয়ুভাল আব্রাহাম ইজরায়েলি সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনিও জুড়ে যান প্যালেস্তাইনীয় বন্ধুর সঙ্গে, তাঁরই রাষ্ট্রকর্তৃক অত্যাচারের দলিল তৈরি করতে।
এই ছবি আশ্চর্য স্পর্ধার জন্ম দেয়। কেবল ইজরায়েলি অত্যাচার, অমানবিক নিপীড়নের একটা শিউরে-ওঠা ডকুমেন্টেশন করে বলে নয়; এই ছবি নিজের শরীরের মধ্যেই দৃশ্য-শব্দের ছুঁচ দিয়ে বুনে দেয় প্রতিরোধের উল্কি। উপনিবেশ তৈরি করা, অন্যান্য দেশ কব্জা করা, অপেক্ষাকৃত দুর্বলের ওপর অমানবিক পীড়ন করার মধ্যে তো আসলে ডিহিউম্যানাইজ করার প্রবণতা রয়েছে, ইজরায়েলও প্যালেস্তিনবাসীদের সঙ্গে সেই একই কাজ করছে। সহজে বললে, তারা যে মানুষ— এই সহজ সারসত্যিটুকুই অস্বীকার করছে। এমনভাবে তাদের উপস্থিতি উপেক্ষা করছে, যেন এই মানুষগুলোর কোনও অস্তিত্ব নেই, কোনোদিন ছিলই না। যখন তখন ট্যাঙ্ক ঢুকিয়ে, বুলডোজার ঢুকিয়ে ভেঙে দিচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি, মুরগির খামার। কেউ প্রতিবাদ করলে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে গুলিও চালাতে ছাড়ছে না। এখানেই জরুরি, অপরিহার্য প্রতিস্বর তৈরি করেন নির্মাতারা।
ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িতে বসে কেউ মোবাইলে গেম খেলে। অপরিসীম অন্ধকারের মধ্যে দূরভাষে প্রিয় মানুষের মুখ ভেসে ওঠার আলোয় উদ্ভাসিত হয় নিপীড়িত মানুষগুলোর মুখ। একটা ধ্বংস হয়ে যাওয়া পার্কে কী করে যেন বেঁচে যায় একটা নাগরদোলা— পড়ন্ত সূর্যের আলোয় তাতেই খেলে বেড়ায় সব-হারানো দু’টি অপাপবিদ্ধ বাচ্চা। অস্থায়ী বাসায় স্মার্ট টিভি চলে— তাতে ফিটনেসের ভিডিও, জনপ্রিয় সিরিয়ালের অংশবিশেষ সম্প্রচারিত হয়। প্লাস্টিকের তাঁবুতে কোনরকমে দোলনা টাঙিয়ে আপনমনে দুলে চলে একটি বাচ্চা— সব ঠিকঠাক থাকলে যার প্রাইমারি স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। ভেঙেচুরে যাওয়া ছাদে বসে নৈশভোজন সারে একটা পরিবার। একটা বাচ্চা দৌড়ে চলে এলে তাকে ভাগ করে খাবার খেতে শেখানো হয়।
জমিতে কাল্পনিক দাগ কেটে যেখানে কেবলই ভূখণ্ডকে ভাগ করা হয়, সেই বিভাজনের বিপ্রতীপে নিজেরটুকু ভাগ করার একটা জরুরি শিক্ষা পায় বাচ্চাটি। শেখে, নিজের বলে আগলাতে গিয়ে মানুষকে দূরে ঠেলা যায় না। একজন প্রৌঢ়া মহিলা বাষ্পরূদ্ধ কণ্ঠে বলেন, এ-জমি আমাদের বলেই তো ছেড়ে যেতে এত কষ্ট হচ্ছে! বুক মুচড়ে ওঠে। সামান্য টিমটিমে আশা বাদে সমস্ত কিছু হারিয়ে ফেলা মানুষগুলো কিন্তু বাঁচতে ভোলেননি। এই বেঁচে থাকার কাহিনীগুলোই সযত্নে নির্মাতারা ধরে রাখেন; বকলমে বুঝিয়ে দেন, যতই তাঁদের মনুষ্যত্বকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হোক, তাঁরা সিনেমার মাধ্যমে ধরে রাখবেন তাঁদের বেঁচে থাকার অফুরান প্রাণশক্তি, তাঁদের পূর্বজদের ভিটেমাটিতে টিকে থাকার নাছোড় লড়াই। এ-শুধু সিনেমা নয়। এ-চলচ্ছবি ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের দলিল, প্রতিস্পর্ধার স্ফূলিঙ্গ। ছবির শেষে তাই জ্বলজ্বল করে, “Masafer Yatta exists for one reason. People who hold on to life.”
ছবিটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পাশাপাশি বন্ধুত্বেরও। সামনাসামনি বসে এক ইজরায়েলি আর এক প্যালেস্তিনীয় সমবয়সি তরুণ আড্ডা মারে। তাদের দৈনন্দিন, নিস্তরঙ্গ কথোপকথনেই প্রকট হয়ে ওঠে দুই দেশের শীতল বৈপরীত্য। ইজরায়েলি তরুণটি মা-র কাছে যাওয়ার কথা বলে। প্যালেস্তিনীয় তরুণটি বিষণ্ণ হেসে জানায়, তার মাসাফের ইয়াট্টা ছেড়ে নড়ার উপায় নেই। এই যে প্রতিদিনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ কাজেই প্যালেস্তিনীয় তরুণটিকে এত বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়; এতেই বোঝা যায়, দু’টি মানুষ পাশাপাশি বসে থাকলেও, আসলে কেউ তাদের মাঝখানে টেনে রেখেছে চিরস্থায়ী বিভাজনরেখা। তবে, এই দু’জন সেই সীমানার তোয়াক্কাই করেন না। আশার কথা সেটাই। এঁরাই অন্যতম নির্মাতা বাসেল আদ্রা আর ইয়ুভাল আব্রাহাম।
এই ফিল্ম ধ্বংসের ছবি দেখায়। আশঙ্কিত মুখ ধরে রাখে। সামরিক অমানবিকতার দলিল হয়ে থাকে। ভেঙে যাওয়া বাড়িঘরের মধ্যেও জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ধরে রেখে ডিহিউম্যানাইজেশনের প্রতি-আখ্যান তৈরি করে। নিজেদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদের মাধ্যম হয়ে ওঠে। আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে ভ্লাদিমির লেনিন বুঝেছিলেন সিনেমার জনসংযোগকারী ক্ষমতার কথা। সিনেমার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মানুষকে জুড়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। আর এই ছবির নির্মাতারাও নিজেদের নিপীড়নের কথা আর কোনোভাবে বলতে না পেরে ফিল্ম বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পৃথিবীর একাংশের ক্ষয়ের প্রতি বাকি পৃথিবী যেভাবে উদাসীন, সেই ঔদাসীন্যকে সজোরে ঝাঁকিয়ে দিতে চেয়েছেন। এই একচোখোমির সামনে নারকীয় হত্যাকাণ্ড, ওয়ার ক্রাইমটিকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁদের বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার প্রয়াস যে বৃথা হয়নি, তার প্রমাণ এই ছবির অস্কার পাওয়া। অস্কারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, ঝাঁ-চকচকে মঞ্চে ধ্বংস হতে বসা মাসাফের ইয়াট্টার সংগ্রাম স্বীকৃতি পাচ্ছে— এ-ও নির্মাতাদের এক বিজয় বইকী!
আমেরিকা থেকে মাসাফের ইয়াট্টা নাহয় অস্কার নিয়ে এল। আমেরিকা কি মাসাফের ইয়াট্টার পতনের শব্দ শুনতে পাবে? বাকি পৃথিবী?
রণদীপ নস্কর
পড়ার মতো
প্রত্যেকবছর ঘটা করে আন্তর্জাতিক নারীদিবস পালিত হয়। দোকানে দোকানে ডিসকাউন্ট, অফিসে অফিসে নানা অনুষ্ঠানে ছয়লাপ হয়ে থাকে ৮ই মার্চ। সোশ্যাল মিডিয়ার কুম্ভিপাকে ক্ষমতায়ন, অধিকার, বিচার, ইত্যাদি শব্দ বেশি করে উঠে আসে। অথচ নারী দিবসের ইতিহাস অন্যরকম। বিপ্লব উত্তর সোভিয়েত ইউনিয়নে শ্রমজীবী নারীদের লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে এই দিনটি পালিত হতো শ্রমজীবী নারী দিবস হিসাবে। কিন্তু, পরবর্তীকালে খুব চালাকি করে বাজারের মোলায়েম গা থেকে বামপন্থার গন্ধ মুছে ফেলতে ‘ শ্রমজীবী ’ কথাটি সরিয়ে দেওয়া হলো। এর সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক নারীদের অধিকারও আস্তে আস্তে কেড়ে নেওয়া শুরু হলো। কিভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিক নারীরা যৌন নিগ্রহের শিকার হন, আর কেন বিচার পান না, খুব বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যশোধরা রায়চৌধুরী। পড়ুন এখানে (https://www.4numberplatform.com/?p=38463)।
দেখার মতো
কুণাল কামড়া একজন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান খুব বহুল পরিচিত শব্দ। অবশ্য এর কোনো সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ নেই। তবে কুণালবাবুর কাজকর্ম যেমন, তাতে তাঁকে বিদূষক বললে ভুল বাংলা করা হয় না। তিনি বিজেপি - আর এস এসের ঘোষিত বিরোধী। তাঁর নানা কমেডি রুটিনে কেন্দ্রের ও নানা রাজ্যের বিজেপি ও তাঁদের শরিকদের সরকারের বিরুদ্ধে থাকে তির্যক মন্তব্য। সে কারণে তিনি বিজেপি আইটি সেল কুলের চক্ষুশূল। সম্প্রতি কুণাল মুম্বাইয়ের একটি শোতে নিজের দল ভাঙিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া একনাথ শিন্ডেকে নিয়ে কিছু সমালোচনামূলক কথা বলেছেন। তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে একনাথের একদল বীর সেনানী শোয়ের প্রেক্ষাগৃহ ভাঙচুর করে এসেছেন। কুণালকে প্রাণের হুমকি, একশোটি এফ আই আর, সবই উপহারে পেতে হয়েছে। এমন অবস্থায়, ওনার কমেডি আসলে মজার কিনা, বা তা ক্ষণস্থায়ী কিনা, সেসব প্রশ্ন গৌণ। দেশের গণতন্ত্র ও মুক্ত বাচনের অধিকার নিয়ে আমরা যারা কিছু হলেও ভাবিত, তাদের একমাত্র কাজ কুণাল ও তাঁর মতো আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানানো। যতই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হোক না কেন।
আন্দোলনের আটকাহন
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমেরিকায় যেটুকু গণতন্ত্র অবশিষ্ট ছিল, তাও ধ্বংসের মুখোমুখি। সরকারি পরিকাঠামো নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে খোলাখুলি ভাবে। টেসলা খ্যাত এলন মাস্ক এই আক্রমণের শিরোনামে। তিনি আমেরিকার লক্ষ লক্ষ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে তা দুর্ব্যবহার করছেন। ফলে, অনেকেই চাকরি হারা, ভিসা বিহীনি। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এলন মাস্কের বিরুদ্ধে মানুষ অসংগঠিত ভাবে হলেও প্রতিবাদ করেছেন।
স্মরণীয়
উৎপল দত্ত (১৯২৯-১৯৯৩) ভারতের নাট্য ও চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম লাল তারা। তাঁর নির্দেশিত টিনের তলোয়ার, কল্লোল, দুঃস্বপ্নের নগরী, ব্যারিকেড, ইত্যাদি নাটক সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিকে তুলে ধরে নগ্ন অথচ নান্দনিক ভাবে। নতুন সমাজ গড়ে তোলার জন্য খেটে খাওয়া মানুষের কাছে নাটককে পৌঁছে দিতে তিনি ছিলেন অগ্রণী। আজীবন নিজেকে বামপন্থী প্রপাগান্ডিস্ট বলে গেছেন। বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯২৯ সালের ২৯শে মার্চ। তাঁর টিনের তলোয়ার নাটকটি দেখুন নিচে।
উৎসবের সময় এইটুকুই। আরো অনেককিছু আগামী মাসে।





